প্রতিনিধি 23 September 2026 , 3:09:57 প্রিন্ট সংস্করণ
শেখ এ. কে. আজাদ, নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার:

সাভার পৌর এলাকায় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। গত এক সপ্তাহে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সুপার মেডিকেল হাসপাতাল, ল্যাব জোন হাসপাতাল, ইসলামিয়া হাসপাতাল, সেবা ক্লিনিক, রেজিয়া ক্লিনিক ও নিউ দ্বীপ ক্লিনিকসহ বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে শতাধিক রোগী ভর্তি হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভার ১ থেকে ৯ নং ওয়ার্ডের সবকটিতেই ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়েছে। জমে থাকা পানি, অপরিষ্কার ড্রেন এবং বাসাবাড়ির ছাদে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার লার্ভা বংশবিস্তার করছে।
এদিকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন পৌরসভার নয়াবাড়ি এলাকার বাসিন্দা মর্জিনা পারভীন (৩৮)। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে তিনি হাসপাতালে ভর্তি আছেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ভর্তির পর ব্লিডিং শুরু হলে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। কর্তব্যরত চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য রাত ১টার দিকে তাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর উদ্যোগ নেন। তবে পরিবারের অনুরোধে তাকে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রেখেই বিকল্প পদ্ধতিতে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এতে ৬ দিনে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে।
মর্জিনা পারভীন হাসপাতালে ভর্তির পর রাতে তারও ব্লিডিং শুরু হয় এবং রক্তচাপ ৮০/৬০-এ নেমে আসে। তাকেও রাত ১টার দিকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। পরে সকল রিপোর্ট হাতে না আগেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পর্যালোচনা করে চিকিৎসকরা ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসা পদ্ধতি পরিবর্তন করেন। বর্তমানে প্রায় ১ সপ্তাহ পর তার শারীরিক অবস্থা উন্নতির দিকে যায় বলে জানান।
সাভার পৌর এলাকার ৮ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও শিক্ষার্থী আরাফাত (৩০) নামে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে একই হাসপাতালে ভর্তি হয়। তিনি জানান তার অবস্থা উন্নত হয়েছে।
সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ফজলে বারী জানান, “আক্রান্তদের মধ্যে অনেকের অবস্থা জটিল। ব্লিডিং ও প্লাটিলেট কমে যাওয়ার উপসর্গ দেখা যাচ্ছে। সবাইকে সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। জ্বর হলে দ্রুত হাসপাতালে আসুন।” তিনি আরও জানান, শুধু ২২ সেপ্টেম্বরই ১২ জন ডেঙ্গু পজিটিভ রোগী ভর্তি হয়েছেন।
এদিকে পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মশক নিধনে ফগার মেশিন ও ওষুধ ছিটানোর কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়মিত ওষুধ ছিটানো হচ্ছে না।
উল্লেখ্য, সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৫০ শয্যার হলেও ডেঙ্গু রোগীর চাপে শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে। অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
চিকিৎসকদের পরামর্শ, জ্বর ১০২ ডিগ্রি হলে, শরীরে ব্যথা ও বমি হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে এবং বাসাবাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রেখে জমে থাকা পানি ফেলে দিতে হবে।

















