জেলার সংবাদ

সাটরিয়ার ইউনিয়ন আ‘লীগ নেতার পক্ষে বিএনপি ও তাতীদলের প্রত্যায়ন

  প্রতিনিধি 1 October 2026 , 6:22:38 প্রিন্ট সংস্করণ

সাটুরিয়া ( মানিকগঞ্জ ) সংবাদদাতাঃ  নাম মুহাম্মদ রুহুল আমিন (রুবেল) তিনি  মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বরাইদ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের আইনবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন । গত – ২২ সেপ্টেম্বর  রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড, নাশকতার পরিকল্পনা ও অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির অভিযোগে  সাটুরিয়া থানা পুলিশ  রুহুল আমিনকে গ্রেফতার করে । পরদিন তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয় । কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পদধারী ঐ নেতাকে  বিএনপির নেতা দাবি করে কারাগার থেকে মুক্তির জন্য প্রত্যয়নপত্র দেন  সাটুরিয়ার স্থানীয় বিএনপি ও জাতীয়তাবাদী তাঁতী দল।

তাকে জামিনে মুক্ত করতে গত ২৪ সেপ্টেম্বর দুটি পৃথক প্রত্যয়নপত্র দেওয়া হয়। একটিতে স্বাক্ষর করেন বরাইদ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবদুল হামিদ, ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন ও ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আবদুল মান্নান।

imgres

 

শুধু বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ততার দাবিই নয়, তাঁতী দলের দেওয়া প্রত্যয়নপত্রে ওই আওয়ামী লীগ নেতাকে ৫ আগস্টের আগে ‘ফ্যাসিস্ট সরকার উৎখাতের আন্দোলন-সংগ্রামে’ অংশগ্রহণকারী হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দলীয় নথিতে তার পদ থাকার তথ্য রয়েছে।

এ নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে। বিএনপির একাংশ বলছে, আওয়ামী লীগের পদধারী একজন ব্যক্তির পক্ষে দলীয় পরিচয়ে এমন প্রত্যয়ন দেওয়া কতটা যৌক্তিক, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

 

প্রত্যয়নপত্রে বলা হয়, রুহুল আমিন ও তার পরিবার পূর্ব থেকেই বিএনপির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত এবং বিএনপির সব কার্যক্রমে তারা সহযোগিতা করেছেন। এমনকি সেখানে দাবি করা হয়, তিনি কখনোই আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।

এর একদিন আগে উপজেলা তাঁতী দলের সভাপতি মো. বাবুল হোসেন স্বাক্ষরিত আরেকটি প্রত্যয়নপত্রে একই ধরনের দাবি করা হয়। সেখানে বলা হয়, রুহুল আমিন ও তার পরিবার বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং ৫ আগস্টের পূর্ববর্তী ফ্যাসিস্ট সরকারের উৎখাতের জন্য সব আন্দোলন-সংগ্রামে তারা অংশ নিয়েছেন। ওই প্রত্যয়নপত্রে আরও দাবি করা হয়, তিনি কখনোই আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।

তবে আওয়ামী লীগের দলীয় নথিতে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে এসব দাবির মিল পাওয়া যাচ্ছে না। ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি মো. ফজলুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আফাজ উদ্দিন স্বাক্ষরিত ঘোষিত কমিটিতে রুহুল আমিনকে বরাইদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ওই কমিটিই এখনো বহাল রয়েছে এবং রুহুল আমিনের পদও বহাল আছে।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা বিএনপির এক নেতা বলেন, আওয়ামী লীগের পদধারী একজন ব্যক্তির পক্ষে দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে বিএনপির নেতাদের প্রত্যয়ন দেওয়া সংগঠন ও রাজনৈতিক শৃঙ্খলার প্রশ্ন তৈরি করে। বিষয়টি কেন্দ্রীয় ও স্থানীয়ভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

 

এ বিষয়ে বরাইদ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবদুল হামিদ বলেন, প্রত্যয়নপত্র দেওয়া ভুল হয়েছে। রুহুল আমিনের আওয়ামী লীগে পদ-পদবি আছে, তা আমার জানা ছিল না। প্রত্যয়নপত্রটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে।

 

আরও খবর

                   

জনপ্রিয় সংবাদ