প্রতিনিধি 4 October 2026 , 4:56:01 প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

: স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর উপজেলা প্রকৌশলী অধিদপ্তর (এলজিইডি) সাড়ে তিন হাজার গাছের চারা রোপণ করেছে। জেলার সাতটি উপজেলায় মোট ১৪ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়কের উভয় পাশে এসব চারা রোপণ করা হচ্ছে। রোপিত গাছের মধ্যে বিভিন্ন দেশীয় ফল ছাড়াও বনজ এবং ওষুধি গাছের চারা রয়েছে। এসব গাছের পরিচর্যায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগে কর্মরত এলসিএস গ্রুপের মহিলা শ্রমিক নিয়োজিত রয়েছেন।
গুরুদাসপুর উপজেলা প্রকৌশলী মিলন মিয়া বাসস’কে জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ আনুষ্ঠানিকভাবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন। চাচকৈড় জিসি থেকে কুন্দল সড়ক, ধারাবারিষা থেকে নয়াবাজার সড়ক এবং বিলসা এলাকায় ইতোমধ্যে ৪শ’ চারা রোপণ করা হয়েছে। আরো কয়েকটি সড়কে গাছের চারা রোপণ করা হবে।
সিংড়া উপজেলা প্রকৌশলী মো. খলিলুর রহমান বাসস’কে জানান, ইতোমধ্যে দেড়শ’ চারা রোপণ করা হয়েছে। বর্ষার মধ্যেই অবশিষ্ট সাড়ে তিনশ’ চারা রোপণ করা হবে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইকবাল হোসেন বাসস’কে জানান, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুপ প্রভাব মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এলজিইডি বৃক্ষরোপণ করছে। গাছের চারা রোপণের পাশাপাশি রোপিত চারা পরিচর্যায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
দেশের বনাঞ্চল বৃদ্ধি, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকার ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর আওতায় মানিকগঞ্জের পুটাইল ইউনিয়নের শিমুলিয়া গ্রামের বিভিন্ন সড়কের পাশে নানা প্রজাতির ফলজ ও কাঠজাতীয় বৃক্ষ রোপণ করা হয়েছে।
সরকারের এ উদ্যোগের আওতায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ছোট-বড় সড়কের পাশে পর্যায়ক্রমে লাখ লাখ বৃক্ষ রোপণ করা হচ্ছে। এর ফলে একদিকে যেমন সড়কের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাচ্ছে, অন্যদিকে ভবিষ্যতে এসব গাছ বড় হলে পথচারীদের ছায়া দেওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে ফলজ গাছ থেকে স্থানীয় মানুষ ও পথচারীরা বিভিন্ন মৌসুমি ফল পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
স্থানীয়দের মতে, সড়কের পাশে পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণের ফলে এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে রাস্তার পাশে রোপণ করা গাছগুলো ছোট থাকলেও কয়েক বছর পর এগুলো বড় হয়ে সবুজের আবরণ তৈরি করবে। এতে পথচারীদের চলাচলে স্বস্তি বাড়বে এবং এলাকার পরিবেশও আরও মনোরম হয়ে উঠবে।
রোপণ করা গাছগুলো যাতে নির্বিঘ্নে বেড়ে উঠতে পারে, সে বিষয়েও নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। গাছের চারপাশে থাকা আগাছা ও ঘাস নিয়মিত পরিষ্কার করা হচ্ছে। পাশাপাশি গরু-ছাগলসহ গবাদিপশুর হাত থেকে চারা গাছ রক্ষার জন্য অনেক স্থানে বাঁশ ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে বেড়া দেওয়া হয়েছে।
পুটাইল ইউনিয়নের বিএনপির যুবদলের সহ-সভাপতি মোঃ শফিকুল ইসলাম নিজে উপস্থিত থেকে বৃক্ষগুলোর পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ তদারকি করছেন। তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে গাছগুলোর চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং গাছের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন।
মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, “গাছ আমাদের জাতীয় সম্পদ। একটি গাছ শুধু পরিবেশের ভারসাম্যই রক্ষা করে না, মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই রোপণ করা গাছগুলোকে বড় করে তুলতে হলে শুধু সরকারের ওপর নির্ভর করলে হবে না; সমাজের প্রত্যেক মানুষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “এই গাছগুলো একদিকে যেমন ভবিষ্যতে মানুষকে বিভিন্ন ধরনের ফল দেবে, অন্যদিকে সড়কে চলাচলকারী মানুষের জন্য ছায়া প্রদান করবে। তাই গাছ রোপণের পাশাপাশি এর পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণ করাও আমাদের সবার দায়িত্ব।”
পরিবেশবিদ ও সচেতন মহলের মতে, বৃক্ষরোপণ শুধু রাস্তার সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করার অন্যতম উপায়। বেশি বেশি গাছ লাগানোর পাশাপাশি রোপণ করা গাছগুলোকে সঠিকভাবে পরিচর্যা ও সংরক্ষণ করা গেলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, বায়ুদূষণ কমানো এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব।
স্থানীয় বাসিন্দারা সরকারের এ ধরনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, সড়কের পাশে ফলজ ও কাঠজাতীয় বৃক্ষ রোপণের ফলে আগামী দিনে এলাকাটি আরও সবুজ ও মনোরম হয়ে উঠবে। তবে রোপণ করা গাছগুলো যাতে নষ্ট না হয় এবং নিয়মিত পরিচর্যা করা হয়, সেদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় জনগণকে আরও নজর দিতে হবে।
সচেতন মহলের প্রত্যাশা, পুটাইল ইউনিয়নের শিমুলিয়া গ্রামের মতো দেশের প্রতিটি সড়কের পাশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে এবং রোপণ করা প্রতিটি চারা গাছকে পরিপূর্ণ বৃক্ষে পরিণত করতে সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করবে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোহাম্মদ বেলাল হোছাইন ভুঁইয়া
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং পরিবেশ রক্ষা ও সবুজায়ন বাড়াতে বৃক্ষরোপণ করেছেন সিংগাইর উপজেলা নিবার্হী অফিসার (ইউএনও) খায়রুন্নাহর ।
১৯ আশ্বিন ৪ অক্টোবর ৯ রবিবার ) বুধবার দুপুরে উপজেলার তালেবপুর ইউনিয়নের কাংশা – খড়ারচর সড়কে এ বৃক্ষপোন করা হয় ।
সেচ্ছাসেবী সংগঠন আগরপুর সমাজ কল্যান ফাউন্ডেশনের আয়োজনে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়।
উদ্বোধনকালে ইউএনও আসমা উল হুসনা বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী রেখে যেতে হলে সবাইকে গাছ লাগাতে হবে। তিনি বলেন, এটি পরিবেশ রক্ষার একটি সামাজিক আন্দোলন। এ কর্মসূচিকে সফল করতে সর্বস্তরের জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন- সিংগাইর উপজেলা প্রকৌশলী গোলাম সাদমানী,
জাহাঙ্গীর নগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুল আহসান খান হিমু, ইউপি সদস্য কাইউম হোসেন, মনিরুল ইসলাম খান, মমিন হাওলাদার, নাঈম হাওলাদার, মামুন খলিফা, আবু বক্কর ছিদ্দিক স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং পরিবেশপ্রেমী নাগরিকরা।
সড়কের পাশে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়।





