Uncategorized

ঢাকা -আচিরা মহাসড়কের ভূমদক্ষিণ -খাসেরচর ভায়া কার্পেট মিল রাস্তার বেহাল দশা- দেখোর কেউ নেই

  প্রতিনিধি 16 October 2026 , 5:24:03 প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকা -আচিরা মহাসড়কের ভূমদক্ষিণ -খাসেরচর ভায়া কার্পেট মিল রাস্তার বেহাল দশা- দেখোর কেউ নেই

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

মানিকগঞ্জের সিংগাইর  উপজেলার  ঢাকা – আচিরা – ভূমদক্ষিণ -খাসেরচর ভায়া  কার্পেট মিল সড়ক যেন এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।স্থানীয় সরকার এলজিইডি অধিদপ্তরের   দীর্ঘ  প্রায় সাড়ে সাত  কিলোমিটার  সড়কের মধ্যে খাসেরচর হতে

ভাটিরচর বাজার হয়ে কার্পেট মিল পর্যন্ত সাড়ে ৪ কিলোমিটার রাস্তার পুরোটা জুড়েই ছোট-বড় খানাখন্দ তৈরি হয়ে বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। এ সড়কগুলোতে প্রতিদিন হাজারো যানবাহন, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীরাসহ সাধারণ মানুষের চলাচল করলেও দীর্ঘদিন কোনো ধরনের টেকসই সংস্কার হয়নি। ফলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পথচারী ও যানবাহন চালকদের।

জানা যায়,   ঢাকা -আরিচা – ভূমদক্ষিণ খাসেরচর ভায়া কার্পেট মিল পর্যন্ত সড়কটি  ইউনিয়নের মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । কারণ এই রাস্তা দিয়ে ফোর্ডনগর, ভাটিরচর, খাসেরচর গ্রামের মানুষ সিংগাইর উপজেলা, থানা, জেলা শহরের যাতায়াত করেন। রাস্তাটি ভেঙ্গে খানাখন্দে পরিনত হওয়া এই রাস্তা দিয়ে যানহাবন  দিয়ে চলাচলের খুবই কষ্ঠ হয় ।

 

। এদিকে  ভূমদক্ষিণ-খাসেরর, ভাটিরচর- কার্পেট মিল পর্যন্ত  সড়কে প্রতি বছর বর্ষা এলেই এমন দুর্ভোগ পোহাতে হয় বলে পথচারী ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এবার বর্ষায় এ সড়কের পিচ উঠে নিচের মাটি বেরিয়ে বড় বড় গর্তের তৈরি হয়েছে। এতে এসব সড়কের বিভিন্ন জায়গায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটছে এবং ভারী যানবাহন আটকে পড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সড়কটির টেকসই সংস্কার না হওয়ায় একদিকে পথচারী, শিক্ষার্থী এবং হাসপাতালে জরুরি সেবা প্রত্যাশীরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, একইভাবে  ব্যবসায়ী, পোল্ট্রি খামারি, ডিম ব্যবসায়ী, এ অঞ্চলের সবজি ও কাঁচামাল আমদানি ও রপ্তানিকারকরাও চরম ক্ষতির মুখোমুখি হচ্ছেন। এতে আমদানি এবং রপ্তানি করা পণ্যের দামও বেড়ে যায়।

ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম বলেন, এই রাস্তায় বৃষ্টির পানি জমে বড়বড় গর্তের কারণে যানবাহন চলাচলে ব্যাপক সমস্যা হয়। মাঝে মধ্যেই যানবাহন আটকা পড়ে জনদুর্ভোগ দেখা দেয়। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যেও মারাত্মক প্রভাব পড়ে।

 খাসেরচর মাহমুদিয়া ফাযিল মাদ্রাসার এক শিক্ষার্থী   বলেন, প্রতিদিন মাদরাসায় যাওয়ার সময় জামা-কাপড় কাঁদা পানিতে ভিজে যায়, কখনো কখনো পড়ে যাই। অনেক সময় ভ্যান নিয়েও যেতে পারি না।

অটোরিকশা চালক মো.শাহজাহান মিয়া বলেন, খাসেরচর বাজার  থেকে ভাটিরচর  যেতেই গাড়ির অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। সড়কে খানাখন্দ থাকায় গাড়ি অল্প কদিন চালালেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আয় যা করছি গাড়ি মেরামত করতেই তা শেষ হয়ে যাচ্ছে।

 ভাটিরচর এক অটোরিক্সার যাত্রী  বলেন, এই সড়ক দিয়ে হাজারো মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাফেরা করছে। উন্নয়নের যুগে এসে এখনও আমরা রাস্তাই চাই, এটা দুঃখজনক।

 ভাটিরচর গ্রামের কামরুল ইসলাম বলেন  গত ৩/৪ বছর আগে এই সড়কের কাজ শেষ হয়। আর এখনি সড়কে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। বৃষ্টি হলে কখনো কখনো বড় গাড়ি তো চলেই না, তখন মোটরসাইকেল নিয়েও চলাচল করা যায় না।

এ ব্যাপারে সিংগাইর উপজেলা প্রকৌশলী  গোলাম সাদমানী  জানান, ঢাকা -আচিরা – ভূমদক্ষিণ – খাসেরচর – কার্পেট মিল  সাড়ে  সাত কিলোমিটার রাস্তাটির মধ্যে প্রায়  সাড়ে ৪ কিলোমিটার ( খাসেরচর বাজার হতে ভাটিরচর বাজার পর্যন্ত ) বেশি খারাপ । আমরা  ইতিমধ্যে বিভিন্ন প্রকল্পে রাস্তাটি পাঠিয়েছি । প্রকল্প অনুমোদন হলেই আমাগী বর্ষা আসার আগেই  রাস্তাটি সংস্কার করা হবে ।

আরও খবর

                   

জনপ্রিয় সংবাদ