প্রতিনিধি 26 October 2026 , 3:29:29 প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
শীতের আগমনী বার্তা এখনো পুরোপুরি শুরু হয়নি। এরই মধ্যে আগাম শীতকালীন সবজির চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার কৃষকগণ । সিংগাইর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠজুড়ে শিম, বেগুন, টমেটো, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মূলা ও পালংশাকের চাষ হচ্ছে। আগাম সবজির ভালো দাম পাওয়ার আশায় কৃষকেরা বিনিয়োগ করছেন, স্বপ্ন দেখছেন গত কয়েক মৌসুমের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার।

সিংগাইর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় ৫ থেকে ৬ হাজার হেক্টর জমিতে আগাম শীতকালীন সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে ৩ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে চাষাবাদ হয়েছে। অক্টোবরের শেষ নাগাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। মূল শীতকালীন মৌসুম শুরু হলে জেলায় সবজি চাষের মোট জমির পরিমাণ প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার হেক্টরে পৌঁছাতে পারে।
এ বছর প্রতি বিঘা জমিতে সবজি চাষে খরচ হচ্ছে প্রায় ৩০ হাজার টাকা। হেক্টরপ্রতি ফলনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে সাড়ে ১৭ মেট্রিক টন। সিংগাইর উপজেলার জয়মন্টপ, ধল্লা, জামশা, বায়রা, চারিগ্রাম, সায়েস্তা ইউনিয়নসহ উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় আগাম সবজির চাষ হচ্ছে। জমিতে চারা রোপণ, সেচ দেওয়া, আগাছা পরিষ্কার ও ফসলের পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষকেরা। ইতিমধ্যে ফুলকপি, বাঁধাকপি, পালংশাক, মূলা, গাজর ও শিমের মতো কিছু সবজি বাজারে উঠতে শুরু করেছে।
জয়মন্টপ ইউনিয়নের দূর্গাপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল হান্নান বলেন, আগাম সবজি চাষে ঝুঁকি থাকলেও লাভের সম্ভাবনা বেশি। অন্য ফসলের তুলনায় এতে খরচ ও শ্রম দুটিই বেশি লাগে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় উৎপাদন খরচও বেড়েছে। তবে বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে আগাম সবজি ভালো দামে বিক্রি করে লাভবান হওয়া সম্ভব।
কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত চাষপদ্ধতির ব্যবহার এবং কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়ার ফলে সবজি উৎপাদনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।
সিংগাইর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষি কর্মকর্তা কিশোর আহমেদ বলেন, আগাম সবজির ভালো ফলন ও ন্যায্য দাম পাওয়ার আশায় উপজেলার কৃষকেরা আশাবাদী। চলতি মৌসুমে এ পর্যন্ত ৩ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে আগাম শীতকালীন সবজির চাষ হয়েছে। কৃষকদের উৎপাদন বাড়াতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।















