1. nasiruddinsami@gmail.com : sadmin :
সিংগাইরে সাপ্তাহিক হাট বন্ধ থাকায় লোকসানের মুখে ইজারাদাররা, সরকারি সহায়তার দাবি - সংবাদ সারাদেশ ২৪
শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৪:০৫ পূর্বাহ্ন

সিংগাইরে সাপ্তাহিক হাট বন্ধ থাকায় লোকসানের মুখে ইজারাদাররা, সরকারি সহায়তার দাবি

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৩১ মে, ২০২০
  • ৮১২ বার

নিজস্ব প্রতিনিধি:

মানিকগঞ্জের  সিংগাইরে করোনা ভাইরাসের কারণে অনির্দিষ্টকালের জন্য সাপ্তাহিক হাট বন্ধ থাকায় চরম বিপাকে পড়েছেন ইজারাদাররা । হাট বন্ধ থাকার কারণে লাখ লাখ টাকা হারিয়ে পথে বসতে চলেছে ছোট-বড় হাট ইজাদাররা । এমতাবস্থায় সরকারি অনুদান প্রদানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করেছেন তারা । তা না হলে লাখ লাখ টাকা পুজি হারিয়ে সর্বশান্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন ইজারাদারা।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ছোট-বড় মোট১৭ টি সাপ্তাহিক ও দৈনিক হাট ও বাজার রয়েছে। প্রতি বছর সরকার এই সব হাট ও বাজার ইজারার মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করে আসছে । কিন্তু বিশ্বব্যাপী মরণ ঘাতক করোনাভাইরাসের কারণে বাংলাদেশে ও স্থবির হয়ে পড়েছে সবকিছু ।করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের কারণে জন সমাগম বন্ধ করার লক্ষ্যে সরকার বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলার সকল সাপ্তাহিক হাটগুলো।

দৈনিক বাজার গুলো দিনের নির্দিষ্ট সময় বসলে ও সেগুলো ও বন্ধ থাকছে সিংহ ভাগ সময় । সিংগাইর  বৃহত্তম রসুন , বাঁশের  ও গরু-ছাগলের ঐতিহ্যবাহী হাট হচ্ছে সিরাজপুরহাট। করোনা ভাইরাসের কারণে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে এই  হাটটি। এতে করে হাটের ইজারাদাররা লাখ লাখ টাকা লোকসানের মুখে পড়েছেন।

এছাড়া ও হাট বন্ধ থাকায় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত বিভিন্ন কৃষি পণ্য গুলো বিক্রি করতে না পারায় লোকসানে পড়েছেন তারাও । কারণ দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে পাইকাররা এই হাটগুলোতে এসে পণ্য কিনে বিভিন্ন অঞ্চলে চালান করতো।

সিরাজপুর সাধারন পশুর হাটের ইজাদার মো.  আজিজুর রহমান বলেন, সরকারি ইজারার মাধ্যমে আইটি ও ভ্যাট দিয়ে মোট এককোটি ৩০ লাখ টাকার মাধ্যমে এক বছরের জন্য সিরাজপুরের হাট টি ইজারা নিয়েছি ।কিন্তু করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের কারণে ১০ টি হাট বসানো সম্ভব হয় নাই।

সপ্তাহের শনিবার ও বুধবার এই দুই দিন হাটটি বসানো হতো । রসুন ,বাঁশ,সবজি ,ধান, পাটসহ অন্যান্য পণ্যের পাশা পাশি গরু ও ছাগল বিক্রি এই হাটের আয়ের প্রধান উৎস। গরু ও ছাগলের জন্য জেলার মধ্যে অন্যতম এই হাট।  ইজারা নেওয়ার পর থেকে হাট বন্ধ থাকায় আমার প্রায়  প্রতি বুধবার গরু ছাগলের হাট থেকে প্রতি সপ্তাহে সাড়ে চার পাঁচ লাখ টাকা লোকসান হচ্ছে । আর কত দিন যে হাট বন্ধ থাকবে তা বলা সম্ভব নয়।

ইতি মধ্যেই সরকার কৃষি, গার্মেন্টস সহ অন্যান্য খাতে কোটি কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা করেছেন । কিন্তু সারাদেশের কয়েক লাখ হাট-বাজার ইজাদারদের জন্য কিছুই ঘোষণা করা হয়নি । তা হলে হাট ও বাজার বন্ধ থাকার কারণে আমরা লাখ লাখ টাকা পুঁজি হারিয়ে পথে বসতে চলেছি । হাট বসলে ও সরকারকে রাজস্ব দিতে হয় আবার না বসলে ও দিতে

হচ্ছে তাহলে আমরা কোথায় যাবো ।সরকারি ভাবে আমাদেরকে যদি কোনো সহায়তা না দেওয়া হয় তাহলে পুঁজি হারিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে ভিক্ষা করে ও অন্ন জোটানো সম্ভব হবেনা।

সিংগাইর পৌরসভার সিংগাইর গবাদি পশু,  সাধারণ হাটবাজারের  ইজারাদার   সিংগাইর বাজার বণিক সমিতির সাধারন সম্পাদক, সিংগাইর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী আব্দুল বারেক খাঁন বলেন, চলতি বৈশাখ মাসে প্রায়  ৩০ লক্ষ  ৩৭ হাজার   টাকা রাজস্ব দিয়ে হাটটি ইজারা নিয়েছি। কিন্তু তার পর থেকে ই হাট বসানো বন্ধ করা হয়েছে। এতে আমি কয়েক লাখ টাকার লোকসানে পড়েছি । জানি না আর কত দিন হাট বসানো বন্ধ থাকবে। তাই সরকারের কাছে দাবি যে কয়েক দিন হাট বন্ধ থাকবে সে কয়েক দিনের টাকা হয় মওকুফ করে দিন আর না হয় প্রণোদনা প্রদান করুক। তা না হলে আমরা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা কিন্তু সর্বশান্ত হয়ে যাবো। তাই প্রধানমন্ত্রী আমাদের দিকে একটু সুদৃষ্টি দেন।

সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুনা লায়লা বলেন, সারাদেশে একই অবস্থা ।আমি মনে করি সরকার অবশ্যই কেন্দ্রীয়ভাবে হয়তো এই বিষয়ে কোনো না কোনো সিদ্ধান্ত নিবেন।   ইজাদাররা তাদের আর্থিক ক্ষতির ব্যাপারে আমাকে লিখিত অভিযোগ দিলে আমি আমার   ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো। তারা  কোনো নাকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2023 SangbadSaraDesh24.Com
Theme Customized By BreakingNews